আজারবাইজান: বাংলাদেশীদের জন্য ভিসা আবেদনের সম্পূর্ণ গাইড

আজারবাইজান: বাংলাদেশীদের জন্য ভিসা আবেদনের সম্পূর্ণ গাইড

কাস্পিয়ান সাগরের তীরে অবস্থিত অপূর্ব সুন্দর একটি দেশ আজারবাইজান। প্রাচ্য ও পাশ্চাত্যের সংস্কৃতির এক অদ্ভুত মেলবন্ধন এই দেশটি। আধুনিক স্থাপত্যের শহর ‘বাকু’ কিংবা ককেশাস পর্বতের সৌন্দর্য—সব মিলিয়ে পর্যটকদের কাছে আজারবাইজান এখন দারুণ জনপ্রিয়।

কিন্তু বাংলাদেশী পাসপোর্টধারীদের মনে একটা বড় প্রশ্ন থাকে—“আজারবাইজানের ভিসা কীভাবে পাবো?”

আজকের ব্লগে আমরা বাংলাদেশীদের জন্য আজারবাইজান ভিসা প্রসেসিং-এর সম্পূর্ণ প্রক্রিয়া নিয়ে আলোচনা করব।

ই-ভিসা (E-Visa) নাকি স্টিকার ভিসা?

সবার আগে একটি ভুল ধারণা পরিষ্কার করা দরকার। অনেক ওয়েবসাইটেই আজারবাইজানের ই-ভিসার কথা বলা থাকে। কিন্তু দুঃখের বিষয় হলো, সাধারণ বাংলাদেশী পাসপোর্টধারীদের জন্য বর্তমানে আজারবাইজানের ই-ভিসা (E-Visa) সুবিধা চালু নেই।

আপনি যদি বাংলাদেশ থেকে ভ্রমণ করতে চান, তবে আপনাকে অবশ্যই স্টিকার ভিসা (Sticker Visa) সংগ্রহ করতে হবে।

ভিসা আবেদনের মাধ্যম: দিল্লি এম্বাসি

visa form

বাংলাদেশে আজারবাইজানের কোনো দূতাবাস বা কনস্যুলেট নেই। বাংলাদেশের নাগরিকদের জন্য নির্ধারিত দূতাবাসটি ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে অবস্থিত।

তাই আপনাকে দিল্লী এম্বাসিতে পাসপোর্ট পাঠিয়ে ভিসা প্রসেস করতে হবে। তবে চিন্তার কিছু নেই, ব্যক্তিগতভাবে ভারতে যাওয়ার প্রয়োজন নেই। বাংলাদেশর নির্ভরযোগ্য ট্রাভেল এজেন্সি বা ভিসা প্রসেসিং সেন্টারগুলোর মাধ্যমে আপনি দেশ থেকেই এই কাজটি করতে পারেন।

ভিসা আবেদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র

স্টিকার ভিসার জন্য সাধারণত নিচের ডকুমেন্টগুলো প্রয়োজন হয়:

১. পাসপোর্ট: অন্তত ৬ মাস মেয়াদ থাকতে হবে। ২. ছবি: সদ্য তোলা ২ কপি রঙ্গিন ছবি (৩৫x৪৫ সাইজ, সাদা ব্যাকগ্রাউন্ড, ম্যাট ফিনিশ)। ৩. ব্যাংক স্টেটমেন্ট: গত ৬ মাসের ব্যাংক স্টেটমেন্ট এবং সলভেন্সি সার্টিফিকেট। (ব্যালেন্স অন্তত ১ লক্ষ টাকা বা তার বেশি থাকা ভালো)। ৪. পেশাগত প্রমাণপত্র:

  • চাকরিজীবী হলে: এনওসি (NOC) বা ভিজিটিং কার্ড।
  • ব্যবসায়ী হলে: ট্রেড লাইসেন্স (ইংরেজি অনুবাদ ও নোটারি করা) এবং ভিজিটিং কার্ড। ৫. কাভার লেটার (Covering Letter): আপনার ভ্রমণের উদ্দেশ্য, তারিখ এবং বিস্তারিত জানিয়ে এম্বাসি বরাবর একটি চিঠি। ৬. হোটেল বুকিং: ভ্রমণের পুরো সময়ের জন্য হোটেল বুকিং কপি। ৭. ফ্লাইট বুকিং: যাওয়া-আসার কনফার্ম ফ্লাইট টিকিট বা বুকিং কপি।

প্রসেসিং সময় ও খরচ

  • সময়: সাধারণত আবেদন জমা দেওয়ার পর ৭ থেকে ১০ কর্মদিবসের মধ্যে ভিসা প্রসেসিং হয়ে যায়। তবে এজেন্সির মাধ্যমে দিল্লী পাঠানো ও ফেরত আনার সময়ের কারণে মোট ১৫-২০ দিন হাতে রাখা ভালো।
  • খরচ: যেহেতু সরাসরি আবেদন করা কঠিন এবং এজেন্সির মাধ্যমে করতে হয়, তাই সার্ভিস চার্জসহ খরচ কিছুটা ভিন্ন হতে পারে। সাধারণত ১৫,০০০ থেকে ২০,০০০ টাকার মধ্যে এই প্যাকেজগুলো পাওয়া যায় (ভিসা ফি + লজিস্টিক চার্জ)।

বিশেষ সুবিধা: মধ্যপ্রাচ্য প্রবাসীদের জন্য (GCC Residents)

আপনি যদি বাংলাদেশী নাগরিক হন কিন্তু মধ্যপ্রাচ্যের জিসিসি ভুক্ত দেশগুলোতে (সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, কুয়েত, ওমান বা বাহরাইন) বসবাস করেন এবং আপনার কাছে বৈধ রেসিডেন্সি বা আকামা থাকে, তবে আপনার জন্য সুখবর!

GCC রেসিডেন্টরা আজারবাইজানের এয়ারপোর্টে নেমেই অন-অ্যারাইভাল ভিসা (Visa on Arrival) পেতে পারেন। সেক্ষেত্রে আগে থেকে স্টিকার ভিসা নেওয়ার প্রয়োজন হয় না। তবে শর্ত হলো, আপনার রেসিডেন্সি পারমিটের মেয়াদ অন্তত ৬ মাস থাকতে হবে।

🛂 আজারবাইজান ভিসার ধরন (বাংলাদেশিদের জন্য)

১) Tourist Visa (Sticker) – Single Entry – ৩০ দিন থাকা
২) Business Visa (Sticker)
৩) Visit Visa
৪) Medical / Conference Visa
৫) Transit Visa

সাধারণ ভ্রমণকারীরা Tourist Sticker Visa নেন।


📄 আজারবাইজান স্টিকার ভিসার জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র

ভিসা আবেদন করতে নিচের ডকুমেন্টগুলো আবশ্যক—

  • বৈধ পাসপোর্ট (কমপক্ষে ৬ মাস মেয়াদি)
  • ২ কপি পাসপোর্ট সাইজ ছবি (সাদা ব্যাকগ্রাউন্ড)
  • পূর্ণাঙ্গ ভিসা আবেদন ফর্ম
  • এয়ার টিকিট (যাওয়া + ফেরা)
  • হোটেল বুকিং / থাকার ঠিকানা
  • ব্যাংক স্টেটমেন্ট (৩–৬ মাস)
  • চাকরি/ব্যবসার প্রমাণ
  • এনওসি (চাকরি ক্ষেত্রে)
  • ইনকাম ট্যাক্স রিটার্ন (যদি থাকে)
  • ভ্রমণের উদ্দেশ্য উল্লেখসহ কভার লেটার

📝 আজারবাইজান ভিসা অ্যাপ্লিকেশন প্রক্রিয়া (Step-by-Step)

১️⃣ ঢাকাস্থ আজারবাইজান এম্বাসি থেকে ভিসা আবেদন ফর্ম সংগ্রহ করুন
২️⃣ সব ডকুমেন্ট প্রস্তুত করুন
৩️⃣ পাসপোর্ট + আবেদন ফর্ম + ডকুমেন্ট জমা দিন
৪️⃣ ভিসা ফি জমা দিন
৫️⃣ প্রসেসিং শেষ হলে পাসপোর্ট সংগ্রহ করুন
৬️⃣ ভিসা স্টিকার পাসপোর্টে লাগানো থাকবে

📍 এম্বাসি লোকেশন:
House 20, Road 60, Gulshan-2, Dhaka


💵 ভিসা ফি ও প্রসেসিং টাইম

  • Tourist Visa Fee: ৬০–৮০ USD
  • Processing Time: ৭–১০ কার্যদিবস
  • Urgent / Express Service সাধারণত নেই
  • ভিসা অনুমোদন সম্পূর্ণ এম্বাসির সিদ্ধান্তের উপর নির্ভর করে

💰 পর্যাপ্ত অর্থের প্রমাণ / ব্যাংক স্টেটমেন্ট

স্টেটমেন্টে ন্যূনতম ৫০,০০০–৮০,০০০ টাকা থাকা উচিত।

এম্বাসি চায় নিশ্চিত হতে যে ভ্রমণকারী নিজের খরচ বহন করতে পারবে।


🌍 আজারবাইজানে পৌঁছানোর পর যা দেখায়

ইমিগ্রেশনে সাধারণত যা চায়—

  • ভিসা স্টিকার
  • রিটার্ন টিকিট
  • হোটেল বুকিং
  • ট্রাভেল ইনস্যুরেন্স (ঐচ্ছিক কিন্তু ভালো)
  • খরচের জন্য ক্যাশ / কার্ড

শেষ কথা

আজারবাইজান ভ্রমণের জন্য সেরা সময় হলো এপ্রিল থেকে জুন এবং সেপ্টেম্বর থেকে অক্টোবর। ভিসা প্রক্রিয়াটি একটু সময়সাপেক্ষ মনে হতে পারে, কিন্তু বাকুর ‘ফ্লেম টাওয়ার’ বা হেইদার আলিয়েভ সেন্টারের সামনে দাঁড়ালে সেই ক্লান্তি দূর হয়ে যাবে।

ভিসা আবেদন করার আগে অবশ্যই ভালো মানের কোনো ট্রাভেল এজেন্সির সাথে পরামর্শ করে আপনার ফাইলটি প্রস্তুত করবেন, যাতে রিফিউজ হওয়ার সম্ভাবনা না থাকে।

শুভ হোক আপনার আজারবাইজান ভ্রমণ!

Malaysia visa guide

Scroll to Top