শরীর সবসময় ক্লান্ত লাগে কেন

শরীর সবসময় ক্লান্ত লাগে কেন

শরীর সবসময় ক্লান্ত লাগে কেন। শরীর সবসময় ক্লান্ত লাগা এমন একটি সমস্যা, যা অনেক মানুষ নীরবে সহ্য করে যান। সকালে ঘুম থেকে উঠেই মনে হয় শরীরে কোনো শক্তি নেই, অল্প কাজেই ক্লান্ত হয়ে পড়ছেন, সারাদিন ঝিমুনি ভাব বা অলসতা লেগে থাকছে। অনেক সময় পর্যাপ্ত বিশ্রাম নেওয়ার পরও এই ক্লান্তি কাটতে চায় না। বেশিরভাগ মানুষ এটাকে সাধারণ দুর্বলতা ভেবে উপেক্ষা করেন, কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে শরীর সবসময় ক্লান্ত লাগা শরীরের ভেতরের কোনো সমস্যার ইঙ্গিতও হতে পারে।

এই লেখায় আমরা বিস্তারিতভাবে জানবো—শরীর সবসময় ক্লান্ত লাগে কেন, এর সাধারণ ও গুরুতর কারণগুলো কী, কারা বেশি ঝুঁকিতে থাকেন, কী করলে কিছুটা স্বস্তি পাওয়া যায় এবং কখন অবশ্যই চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া প্রয়োজন।

শরীর ক্লান্ত লাগা বলতে কী বোঝায়?

শরীর ক্লান্ত লাগা বলতে বোঝায় এমন একটি অবস্থা, যেখানে মানুষ নিজেকে শক্তিহীন, অবসন্ন বা কাজ করতে অনিচ্ছুক অনুভব করেন। এতে শারীরিক শক্তির অভাবের পাশাপাশি মানসিক ক্লান্তিও থাকতে পারে। কখনো এটি সাময়িক হলেও, যদি প্রতিদিন একই অনুভূতি থাকে, তাহলে সেটিকে গুরুত্ব দেওয়া জরুরি।

শরীর সবসময় ক্লান্ত লাগার সাধারণ কারণ

১. পর্যাপ্ত ঘুমের অভাব

নিয়মিত ৭–৮ ঘণ্টা গভীর ঘুম না হলে শরীর ও মস্তিষ্ক ঠিকভাবে বিশ্রাম পায় না। এর ফলে সকালে উঠেই ক্লান্তি অনুভব হয় এবং সারাদিন শক্তি কম থাকে।

২. অনিয়মিত খাদ্যাভ্যাস

সময়মতো খাবার না খাওয়া, পর্যাপ্ত পুষ্টিকর খাবার না পাওয়া বা দীর্ঘসময় না খেয়ে থাকলে শরীর প্রয়োজনীয় শক্তি পায় না। এতে দুর্বলতা ও ক্লান্তি দেখা দেয়।

৩. শরীরে পানির ঘাটতি

অনেক মানুষ বুঝতেই পারেন না যে পর্যাপ্ত পানি না পান করার কারণেও সারাদিন ক্লান্ত লাগতে পারে। পানিশূন্যতা হলে রক্ত সঞ্চালন ও শক্তি উৎপাদন ব্যাহত হয়।

৪. মানসিক চাপ ও উদ্বেগ

দীর্ঘদিন মানসিক চাপ, দুশ্চিন্তা বা হতাশার মধ্যে থাকলে শরীরের শক্তি দ্রুত নিঃশেষ হয়। মানসিক ক্লান্তি ধীরে ধীরে শারীরিক ক্লান্তিতে রূপ নেয়।

৫. রক্তস্বল্পতা (অ্যানিমিয়া)

শরীরে হিমোগ্লোবিন কমে গেলে পর্যাপ্ত অক্সিজেন কোষে পৌঁছায় না। এতে অল্প কাজেই শরীর ক্লান্ত হয়ে পড়ে এবং মাথা ঘোরা বা শ্বাসকষ্টও হতে পারে।

৬. ভিটামিন ও মিনারেলের ঘাটতি

ভিটামিন বি–১২, ভিটামিন ডি, আয়রন বা ম্যাগনেশিয়ামের অভাব শরীরকে দুর্বল করে তোলে। দীর্ঘদিন এই ঘাটতি থাকলে সারাক্ষণ ক্লান্তি অনুভূত হয়।

৭. দীর্ঘস্থায়ী অসুস্থতা

ডায়াবেটিস, থাইরয়েড সমস্যা, হৃদরোগ বা দীর্ঘস্থায়ী সংক্রমণ শরীরকে ধীরে ধীরে দুর্বল করে দেয়। এতে নিয়মিত ক্লান্তি ও কর্মক্ষমতা কমে যায়।

৮. শারীরিক পরিশ্রমের অভাব

অত্যধিক অলস জীবনযাপন বা দীর্ঘসময় এক জায়গায় বসে থাকা শরীরের শক্তি ও সহনশীলতা কমিয়ে দেয়। এতে অল্প কাজেই ক্লান্ত হয়ে পড়া স্বাভাবিক হয়ে যায়।

কারা এই সমস্যায় বেশি ঝুঁকিতে?

  • যারা নিয়মিত পর্যাপ্ত ঘুমান না
  • মানসিক চাপ বা দুশ্চিন্তায় ভোগেন
  • রক্তস্বল্পতা বা ভিটামিন ঘাটতিতে ভোগেন
  • দীর্ঘসময় বসে কাজ করেন
  • বয়স্ক মানুষ

শরীর সবসময় ক্লান্ত লাগলে কী করবেন?

হালকা থেকে মাঝারি ক্লান্তি হলে কিছু অভ্যাস উপকারে আসতে পারে—

  • প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমানো ও জাগা
  • পুষ্টিকর খাবার গ্রহণ
  • পর্যাপ্ত পানি পান করা
  • হালকা ব্যায়াম বা নিয়মিত হাঁটা
  • মানসিক চাপ কমানোর চেষ্টা করা

এই অভ্যাসগুলো ধীরে ধীরে শরীরের শক্তি ফিরিয়ে আনতে সাহায্য করে।

কখন শরীরের ক্লান্তি গুরুতর হতে পারে?

নিচের লক্ষণগুলোর সাথে ক্লান্তি থাকলে বিষয়টিকে গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন—

  • বিশ্রাম নিয়েও ক্লান্তি না কমা
  • অল্প কাজেই শ্বাসকষ্ট
  • ওজন হঠাৎ কমে যাওয়া
  • বুক ধড়ফড় বা মাথা ঘোরা
  • মনোযোগ ও স্মৃতিশক্তি কমে যাওয়া

কখন ডাক্তারের কাছে যাবেন?

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) অনুযায়ী, দীর্ঘদিন ধরে অকারণ ক্লান্তি থাকলে তা উপেক্ষা না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
সূত্র: who

প্রতিরোধের উপায়

  • সুষম ও পুষ্টিকর খাবার
  • নিয়মিত হালকা ব্যায়াম
  • পর্যাপ্ত ঘুম
  • মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ
  • নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা

শেষ কথা

শরীর সবসময় ক্লান্ত লাগা কখনো সাধারণ জীবনযাত্রার ফল হলেও, এটি দীর্ঘদিন চললে শরীরের ভেতরের কোনো সমস্যার ইঙ্গিত হতে পারে। নিজের শরীরের সংকেতগুলো অবহেলা না করে সঠিক সময়ে সচেতন হওয়াই সুস্থ থাকার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উপায়।

দায়বদ্ধতা ঘোষণা

এই লেখাটি শুধুমাত্র সাধারণ তথ্যের জন্য। এটি চিকিৎসার বিকল্প নয়। কোনো শারীরিক সমস্যা বা উপসর্গ থাকলে অবশ্যই রেজিস্টার্ড চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

হাত-পা ঝিনঝিন করা কেন হয়

Scroll to Top