হাত-পা ঝিনঝিন করা কেন হয়

হাত-পা ঝিনঝিন করা কেন হয়।

হাত-পা ঝিনঝিন করা একটি খুব সাধারণ কিন্তু বিরক্তিকর শারীরিক সমস্যা। অনেক সময় মনে হয় হাত বা পায়ে পিঁপড়া হাঁটছে, সুচ ফুটছে কিংবা হালকা অবশ হয়ে যাচ্ছে। ঘুম থেকে উঠে অনেকেই বলেন হাত-পা ঠিকমতো নড়াতে পারছেন না বা কয়েক মিনিট ধরে ঝিনঝিন অনুভূতি থাকছে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে এটি সাময়িক হলেও, যদি সমস্যা বারবার হয় বা দীর্ঘদিন স্থায়ী হয়, তাহলে এটি শরীরের ভেতরে থাকা কোনো সমস্যার ইঙ্গিত দিতে পারে।

এই লেখায় আমরা বিস্তারিতভাবে জানবো—হাত-পা ঝিনঝিন করা কেন হয়, এর সাধারণ ও গুরুতর কারণগুলো কী, কারা বেশি ঝুঁকিতে থাকেন, কী করলে কিছুটা আরাম পাওয়া যায় এবং কখন অবশ্যই চিকিৎসকের কাছে যাওয়া প্রয়োজন।

হাত-পা ঝিনঝিন করা বলতে কী বোঝায়?

হাত-পা ঝিনঝিন করা বলতে বোঝায় স্নায়ু বা রক্ত চলাচলের সমস্যার কারণে হাত বা পায়ে অস্বাভাবিক অনুভূতি তৈরি হওয়া। এতে ঝিনঝিন করা, অবশ লাগা, জ্বালাপোড়া বা অসাড় ভাব দেখা দিতে পারে। কখনো এটি কয়েক সেকেন্ড থাকে, আবার কখনো দীর্ঘ সময় ধরে চলতে পারে।

হাত-পা ঝিনঝিন হওয়ার সাধারণ কারণ

১. ভুল ভঙ্গিতে বসা বা শোয়া

দীর্ঘসময় এক ভঙ্গিতে বসে থাকা, পায়ের উপর পা দিয়ে বসা বা হাতে চাপ দিয়ে ঘুমালে স্নায়ুতে চাপ পড়ে। এতে সাময়িকভাবে রক্ত চলাচল কমে গিয়ে ঝিনঝিন অনুভূতি হয়। ভঙ্গি পরিবর্তন করলে সাধারণত এই সমস্যা নিজে থেকেই ঠিক হয়ে যায়।

২. রক্ত সঞ্চালনের সমস্যা

হাত বা পায়ে রক্ত চলাচল কমে গেলে সেখানে পর্যাপ্ত অক্সিজেন পৌঁছায় না। এর ফলে ঝিনঝিন, অবশভাব বা ঠান্ডা লাগার অনুভূতি হতে পারে। দীর্ঘসময় বসে কাজ করা মানুষদের মধ্যে এই সমস্যা বেশি দেখা যায়।

৩. ভিটামিন বি–১২ বা অন্যান্য ভিটামিনের ঘাটতি

ভিটামিন বি–১২ স্নায়ুর স্বাস্থ্যের জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ। শরীরে এই ভিটামিনের অভাব হলে স্নায়ু দুর্বল হয়ে যায় এবং দীর্ঘদিন হাত-পা ঝিনঝিন করা, অবশ হওয়া বা দুর্বলতা দেখা দিতে পারে।

৪. ডায়াবেটিস

দীর্ঘদিনের ডায়াবেটিস স্নায়ুকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে, যাকে ডায়াবেটিক নিউরোপ্যাথি বলা হয়। এতে প্রথমে পায়ে এবং পরে হাতে ঝিনঝিন, জ্বালাপোড়া বা ব্যথা অনুভূত হয়।

৫. ঘাড় বা মেরুদণ্ডের সমস্যা

ঘাড়ের হাড় বা মেরুদণ্ডের স্নায়ু চাপের মধ্যে পড়লে হাত-পা ঝিনঝিন হতে পারে। যারা দীর্ঘসময় মোবাইল বা কম্পিউটার ব্যবহার করেন, তাদের মধ্যে এই সমস্যা তুলনামূলক বেশি দেখা যায়।

৬. মানসিক চাপ ও উদ্বেগ

অতিরিক্ত মানসিক চাপ বা আতঙ্কের সময় স্নায়ুতন্ত্রের কার্যক্রমে পরিবর্তন আসে। এর ফলে সাময়িকভাবে হাত-পা ঝিনঝিন, অবশভাব বা কাঁপুনি দেখা দিতে পারে।

৭. কিছু ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া

কিছু ওষুধ সেবনের ফলে স্নায়ু সংবেদনশীল হয়ে যেতে পারে। এতে হাত-পা ঝিনঝিন করা বা অসাড় ভাব অনুভূত হতে পারে।

কারা এই সমস্যায় বেশি ঝুঁকিতে?

  • ডায়াবেটিস রোগী
  • দীর্ঘসময় বসে কাজ করেন এমন মানুষ
  • বয়স্ক ব্যক্তি
  • ভিটামিনের ঘাটতিতে ভোগা মানুষ
  • যারা নিয়মিত মানসিক চাপের মধ্যে থাকেন

হাত-পা ঝিনঝিন হলে কী করবেন?

হালকা ঝিনঝিন হলে কিছু সাধারণ অভ্যাস উপকারে আসতে পারে—

  • বসা বা শোয়ার ভঙ্গি পরিবর্তন করুন
  • হাত-পা হালকা স্ট্রেচ করুন
  • পর্যাপ্ত পানি পান করুন
  • দীর্ঘসময় এক জায়গায় বসে না থেকে মাঝেমধ্যে হাঁটুন
  • ঘুমের সময় শরীরের ভঙ্গি ঠিক রাখুন

কখন এটি গুরুতর হতে পারে?

নিচের লক্ষণগুলোর সাথে হাত-পা ঝিনঝিন হলে এটিকে গুরুত্ব দিতে হবে—

  • দীর্ঘদিন ধরে একই সমস্যা
  • হাত বা পায়ের শক্তি কমে যাওয়া
  • হাঁটতে বা জিনিস ধরতে অসুবিধা
  • তীব্র ব্যথা বা জ্বালাপোড়া
  • ডায়াবেটিসের ইতিহাস থাকা

দায়বদ্ধতা ঘোষণা

এই লেখাটি শুধুমাত্র সাধারণ তথ্যের জন্য। এটি চিকিৎসার বিকল্প নয়। কোনো শারীরিক সমস্যা বা উপসর্গ থাকলে অবশ্যই রেজিস্টার্ড চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

কখন ডাক্তারের কাছে যাবেন?

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) অনুযায়ী, দীর্ঘদিন স্নায়ুজনিত সমস্যা বা অবশ ভাব অবহেলা না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
সূত্র: who

প্রতিরোধের উপায়

  • নিয়মিত হালকা ব্যায়াম
  • দীর্ঘসময় এক ভঙ্গিতে না থাকা
  • সুষম খাবার খাওয়া
  • পর্যাপ্ত ঘুম
  • ডায়াবেটিস থাকলে নিয়ন্ত্রণে রাখা

শেষ কথা

হাত-পা ঝিনঝিন করা অনেক সময় সাধারণ কারণেও হতে পারে, তবে এটি দীর্ঘস্থায়ী হলে স্নায়ু বা অন্য কোনো শারীরিক সমস্যার ইঙ্গিত দিতে পারে। নিজের শরীরের সংকেতগুলো বুঝে সময়মতো ব্যবস্থা নেওয়াই সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ।

দায়বদ্ধতা ঘোষণা

এই লেখাটি শুধুমাত্র সাধারণ তথ্যের জন্য। এটি চিকিৎসার বিকল্প নয়। কোনো শারীরিক সমস্যা বা উপসর্গ থাকলে অবশ্যই রেজিস্টার্ড চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। হঠাৎ শ্বাস নিতে কষ্ট হলে কী বোঝায়

Exit mobile version