ঘাড় ব্যথা ও মাথাব্যথার সম্পর্ক। ঘাড় ব্যথা ও মাথাব্যথা—এই দুটি সমস্যা অনেক সময় একসাথে দেখা যায়। অনেক মানুষ লক্ষ্য করেন, ঘাড়ে ব্যথা বা শক্তভাব শুরু হলে কিছুক্ষণ পর মাথার পেছন দিক বা পুরো মাথায় ব্যথা অনুভূত হয়। আবার কখনো দীর্ঘদিনের মাথাব্যথার সাথে ঘাড় শক্ত লাগা বা নড়াচড়া করতে অসুবিধাও যুক্ত হয়। এ কারণে অনেকের মনে প্রশ্ন আসে—ঘাড় ব্যথা ও মাথাব্যথার মধ্যে কি কোনো সম্পর্ক আছে?
এই লেখায় আমরা বিস্তারিতভাবে জানবো—ঘাড় ব্যথা ও মাথাব্যথার সম্পর্ক কী, কেন এই দুটি সমস্যা একসাথে দেখা দেয়, এর সাধারণ কারণগুলো কী, কারা বেশি ঝুঁকিতে থাকেন এবং কখন অবশ্যই চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া প্রয়োজন।
ঘাড় ব্যথা ও মাথাব্যথার মধ্যে সম্পর্ক কী?
ঘাড় ও মাথা স্নায়ু এবং পেশির মাধ্যমে একে অপরের সাথে ঘনিষ্ঠভাবে সংযুক্ত। ঘাড়ের হাড়, পেশি বা স্নায়ুতে কোনো সমস্যা হলে তার প্রভাব মাথায় গিয়ে মাথাব্যথার সৃষ্টি করতে পারে। এই ধরনের মাথাব্যথাকে অনেক সময় সার্ভিকাল হেডেক বা ঘাড়জনিত মাথাব্যথা বলা হয়।
ঘাড় ব্যথা থেকে মাথাব্যথা হওয়ার সাধারণ কারণ
১. দীর্ঘসময় ভুল ভঙ্গিতে বসা
দীর্ঘসময় মোবাইল বা কম্পিউটার ব্যবহার করার সময় মাথা সামনের দিকে ঝুঁকিয়ে বসলে ঘাড়ের পেশিতে অতিরিক্ত চাপ পড়ে। এতে ঘাড় ব্যথা শুরু হয় এবং ধীরে ধীরে মাথার পেছন দিকে ব্যথা ছড়িয়ে পড়ে।
২. ঘাড়ের পেশি শক্ত হয়ে যাওয়া
ঘাড়ের পেশি শক্ত বা টানটান হয়ে গেলে মাথার দিকে রক্ত চলাচল ও স্নায়ু সংকেত প্রভাবিত হয়। এর ফলে মাথাব্যথা দেখা দিতে পারে।
৩. সার্ভিকাল স্পাইন সমস্যা
ঘাড়ের মেরুদণ্ডের হাড়ের সমস্যা বা ডিস্কের পরিবর্তনের কারণে স্নায়ু চাপের মধ্যে পড়ে। এতে ঘাড় ব্যথার সাথে সাথে মাথাব্যথা হতে পারে।
৪. মানসিক চাপ ও স্ট্রেস
মানসিক চাপের সময় অনেকেই অজান্তেই ঘাড় ও কাঁধ শক্ত করে রাখেন। দীর্ঘদিন এই অভ্যাস থাকলে ঘাড় ব্যথা ও মাথাব্যথা দুটোই দেখা দেয়।
৫. ঘুমের ভুল ভঙ্গি
ঘুমানোর সময় ভুল বালিশ ব্যবহার করা বা একদিকে কাত হয়ে দীর্ঘসময় ঘুমালে ঘাড়ে চাপ পড়ে। এতে সকালে উঠে ঘাড় শক্ত লাগা ও মাথাব্যথা অনুভূত হতে পারে।
৬. হঠাৎ ঠান্ডা লাগা
ঘাড়ে হঠাৎ ঠান্ডা বাতাস লাগলে পেশি শক্ত হয়ে যেতে পারে। এতে ঘাড় ব্যথা থেকে মাথাব্যথা শুরু হতে পারে।
৭. শারীরিক পরিশ্রম বা আঘাত
হঠাৎ ভারী কিছু তোলা, দুর্ঘটনা বা আঘাতের পর ঘাড় ব্যথা দেখা দিলে তার সাথে মাথাব্যথাও হতে পারে।
কারা এই সমস্যায় বেশি ঝুঁকিতে?
- যারা দীর্ঘসময় ডেস্কে বসে কাজ করেন
- মোবাইল বা কম্পিউটার বেশি ব্যবহার করেন
- মানসিক চাপের মধ্যে থাকেন
- বয়স্ক মানুষ
- যাদের ঘুমের ভঙ্গি সঠিক নয়
ঘাড় ব্যথা ও মাথাব্যথার সাধারণ লক্ষণ
- ঘাড় শক্ত বা ব্যথা লাগা
- মাথার পেছনে বা কপালে ব্যথা
- ঘাড় ঘোরাতে কষ্ট হওয়া
- মাথা ভারী লাগা
- দীর্ঘসময় বসে থাকলে ব্যথা বেড়ে যাওয়া
ঘাড় ব্যথা ও মাথাব্যথা হলে কী করবেন?
হালকা থেকে মাঝারি সমস্যায় কিছু অভ্যাস উপকারে আসতে পারে—
- দীর্ঘসময় এক ভঙ্গিতে না বসে মাঝে মাঝে বিরতি নেওয়া
- ঘাড় ও কাঁধের হালকা স্ট্রেচিং
- সঠিক উচ্চতার বালিশ ব্যবহার
- মোবাইল বা কম্পিউটার চোখের সমান উচ্চতায় রাখা
- মানসিক চাপ কমানোর চেষ্টা করা
কখন এই সমস্যা গুরুতর হতে পারে?
নিচের লক্ষণগুলোর সাথে ঘাড় ব্যথা ও মাথাব্যথা হলে সতর্ক হওয়া প্রয়োজন—
- তীব্র ও সহ্য করতে না পারা ব্যথা
- হাত বা পায়ে ঝিনঝিন বা অবশ ভাব
- মাথা ঘোরা বা বমি
- দৃষ্টিশক্তিতে সমস্যা
- দীর্ঘদিন ব্যথা কম না হওয়া
কখন ডাক্তারের কাছে যাবেন?
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) অনুযায়ী, দীর্ঘস্থায়ী পেশি ও স্নায়ুজনিত ব্যথা অবহেলা না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
সূত্র: who
প্রতিরোধের উপায়
- সঠিক ভঙ্গিতে বসা ও কাজ করা
- নিয়মিত হালকা ব্যায়াম
- ঘাড় ও কাঁধ স্ট্রেচ করা
- পর্যাপ্ত ঘুম
- মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ
শেষ কথা
ঘাড় ব্যথা ও মাথাব্যথা অনেক সময় একে অপরের সাথে যুক্ত থাকে। দৈনন্দিন জীবনের ছোট কিছু অভ্যাস পরিবর্তনের মাধ্যমে এই সমস্যা অনেক ক্ষেত্রে নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। তবে ব্যথা যদি দীর্ঘদিন চলতে থাকে বা নতুন উপসর্গ যুক্ত হয়, তাহলে অবশ্যই চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ সিদ্ধান্ত।
দায়বদ্ধতা ঘোষণা
এই লেখাটি শুধুমাত্র সাধারণ তথ্যের জন্য। এটি চিকিৎসার বিকল্প নয়। কোনো শারীরিক সমস্যা বা উপসর্গ থাকলে অবশ্যই রেজিস্টার্ড চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। deshlipi.
