Malaysia e-Visa
Malaysia e-Visa Guide মালয়েশিয়া ই–ভিসা (e-Visa) ২০২৫
বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য সম্পূর্ণ নিয়ম, শর্ত, কাগজপত্র ও আবেদন পদ্ধতি
মালয়েশিয়ায় ভ্রমণ, ব্যবসা বা স্বল্পমেয়াদী অবস্থানের জন্য বাংলাদেশি নাগরিকদের e-Visa নেওয়া বাধ্যতামূলক। ভিসা ছাড়া মালয়েশিয়ায় প্রবেশ করা আইনবিরুদ্ধ এবং আপনাকে এয়ারপোর্ট থেকেই ফেরত পাঠানো হবে। নিচে e-Visa করার পূর্ণ গাইড দেওয়া হলো।
🛂 কারা মালয়েশিয়ার e-Visa করতে পারবেন?
- বাংলাদেশি পাসপোর্টধারী সকল ভ্রমণকারী
- পরিবার, বন্ধু-বান্ধব ভিজিট, বা ট্যুরিজম উদ্দেশ্যে
- কিন্তু কাজ, চাকরি, স্টুডেন্ট বা দীর্ঘমেয়াদি থাকার জন্য আলাদা ভিসা দরকার (Work Visa / Student Visa / Visa with Reference)
📝 মালয়েশিয়া e-Visa করার ধাপ
১. অফিসিয়াল ভিসা পোর্টালে যান: malaysiavisa.imi.gov.my
২. নতুন অ্যাকাউন্ট রেজিস্টার করুন বা পুরানো অ্যাকাউন্টে লগইন করুন
৩. ভিসা টাইপ নির্বাচন করুন (Tourist / Single Entry)
৪. অনলাইন ফর্ম পূরণ করুন
৫. দরকারি সব ডকুমেন্ট আপলোড করুন
৬. অনলাইন পেমেন্ট করে আবেদন সাবমিট দিন
৭. ভিসা অনুমোদন পেলে PDF কপি ডাউনলোড করুন
৮. ভ্রমণের সময় ভিসা প্রিন্ট কপি এবং পাসপোর্ট সঙ্গে রাখুন
📄 e-Visa এর জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র
- বৈধ পাসপোর্ট (কমপক্ষে ৬ মাস মেয়াদ থাকতে হবে)
- সাদা ব্যাকগ্রাউন্ডের পাসপোর্ট সাইজ ছবি
- রিটার্ন টিকিট (যাওয়া + ফেরা)
- হোটেল বুকিং বা থাকার ঠিকানার কনফার্মেশন
- ব্যাংক স্টেটমেন্ট (খরচ বহনের সক্ষমতা প্রমাণ)
- ভ্রমণের উদ্দেশ্য অনুযায়ী প্রয়োজনীয় তথ্য
- জাতীয় পরিচয়পত্র (ঐচ্ছিক হলেও অনেকসময় লাগে)
💵 ভিসা ফি, প্রসেসিং সময় ও বৈধতা
- ভিসা ফি: সাধারণত ২০–৩৫ USD এর মধ্যে (অনলাইন অনুযায়ী ভিন্ন হতে পারে)
- প্রসেসিং টাইম: ২৪–৭২ ঘণ্টা (কখনো ৫–৭ দিনও লাগতে পারে)
- ভিসা ভ্যালিডিটি: ৩০ দিন থাকার অনুমতি (Single Entry)
- e-Visa অনুমোদনের পর মালয়েশিয়ায় ১ বার প্রবেশ করা যাবে
⚠️ গুরুত্বপূর্ণ নিয়ম ও শর্ত (আইনগত বিষয়)
- ভিসা ছাড়া মালয়েশিয়ায় প্রবেশ করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ
- ভিসা অনুমোদনের আগে টিকেট কনফার্ম করা বাধ্যতামূলক নয়, তবে বুকিং থাকা ভালো
- ভুল তথ্য দিলে আবেদন বাতিল হবে
- ভিসা অনুমোদনের পর ফেরতযোগ্য নয় – ভুল হলে নতুন আবেদন করতে হবে
- এয়ারপোর্টে ইমিগ্রেশন অফিসার আপনার টিকেট, অর্থের প্রমাণ, হোটেল বুকিং চাইতে পারেন
- আপনার সঙ্গে কমপক্ষে ২০০০–৩০০০ RM সমমূল্যের টাকা থাকা উচিত
- আগের ভিসা আইন ভাঙলে নতুন ভিসা রিফিউজ হতে পারে
🏦 ব্যাংক স্টেটমেন্টে কত টাকা দেখাতে হবে?
সাধারণত ৫০,০০০ – ২০০,০০০ টাকা (বাংলাদেশি)
যদিও নির্দিষ্ট কোনো আইন নেই, তবে ভ্রমণ খরচ বহনযোগ্যতা দেখানো জরুরি।
🛫 মালয়েশিয়ায় যাত্রার সময় যা সঙ্গে রাখবেন
- ই–ভিসার প্রিন্ট কপি
- পাসপোর্ট
- রিটার্ন টিকিট
- হোটেল বুকিং কপি
- ব্যাংক স্টেটমেন্ট (৩ মাস)
- পর্যাপ্ত ক্যাশ/ইন্টারন্যাশনাল কার্ড
🛑 কোন ভুলগুলো করবেন না
- ভিসা ছাড়া এয়ারপোর্টে যাওয়া (১০০% রিফিউজ করা হবে)
- ফেক হোটেল বুকিং
- ফেক ব্যাংক স্টেটমেন্ট (ধরা পড়লে ব্ল্যাকলিস্ট)
- ভুল তথ্য দিয়ে আবেদন করা
- অপরিচিত/স্ক্যাম এজেন্টের মাধ্যমে ভিসা করা
📘 মালয়েশিয়া ই–ভিসা সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ অতিরিক্ত তথ্য (Extra Details)
মালয়েশিয়ার ই–ভিসা ব্যবস্থা বাংলাদেশিদের জন্য ভ্রমণকে আরও সহজ এবং ঝামেলামুক্ত করেছে। আগে যেখানে ভিসার জন্য সরাসরি হাইকমিশনে যেতে হতো, এখন ঘরে বসেই সব করা যায়। তবে অনেকেই আবেদন করার সময় ছোটখাটো ভুল করে ফেলে, যার কারণে ভিসা রিজেক্ট হয়। তাই নিচে আবেদনকারীদের জন্য অতিরিক্ত গুরুত্বপূর্ণ কিছু পরামর্শ তুলে ধরা হলো।
১) ছবির সাইজ এবং ফরম্যাট
অনেকেই ভুল সাইজ/ফরম্যাটে ছবি আপলোড করেন। মালয়েশিয়ার ই–ভিসার জন্য ৩৫×৫০ মিমি সাদা ব্যাকগ্রাউন্ডের ছবি প্রয়োজন। ছবিতে মুখ পরিষ্কার দেখা যেতে হবে, ছায়া থাকা যাবে না, এবং মাথায় ক্যাপ/টুপি থাকা যাবে না। ভুল ছবি দিলে ভিসা বাতিল হতে পারে।
২) পাসপোর্ট স্ক্যান কপি
পাসপোর্টের প্রথম পাতার স্ক্যান কপি অবশ্যই পরিষ্কার হতে হবে। ব্লার অথবা ঝাপসা হলে সিস্টেম গ্রহণ করবে না। পাসপোর্টে কোন লেখায় ভাঁজ বা দাগ থাকলে আগেই সেটা ঠিক করুন।
৩) হোটেল বুকিং যাচাই
অনেক ভুয়া হোটেল বুকিং সাইট রয়েছে। অবশ্যই Booking.com বা Agoda এর মতো বিশ্বাসযোগ্য সাইট ব্যবহার করবেন। ভুয়া বুকিং দিলে ভিসা রিজেক্ট এবং ভবিষ্যতে ব্ল্যাকলিস্ট হওয়ার ঝুঁকি থাকে।
৪) রিটার্ন টিকিটের গুরুত্ব
ইমিগ্রেশন অফিসাররা সাধারণত ফেরার টিকিট দেখে নিশ্চিত হন যে আপনি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে দেশে ফিরে যাবেন। ওপেন/ফ্লেক্সিবল টিকিট নেয়া ভালো, প্রয়োজনে তারিখ পরিবর্তন করা যায়।
৫) অর্থের প্রমাণ
ভ্রমণের সময় আপনার কাছে পর্যাপ্ত অর্থ আছে কি না—এটি ইমিগ্রেশনের অন্যতম প্রধান বিষয়। সাধারণত ন্যূনতম ২০০০–৩০০০ রিঙ্গিত সমমূল্যের অর্থ সঙ্গে রাখা উচিত। ব্যাংক স্টেটমেন্টে নিয়মিত লেনদেন থাকলে আরও ভালো।
৬) ভিসা অনুমোদনের পর করণীয়
ভিসা পেয়ে গেলে এর প্রিন্ট কপি কালার প্রিন্টে নিন। ভিসার QR কোড যেন স্পষ্ট দেখা যায়। এয়ারপোর্টে প্রবেশের সময় ইমিগ্রেশন স্ক্যান করে দেখবে। বিমানে ওঠার আগেও অনেক সময় চেক করা হয়।
৭) ইমিগ্রেশনে সম্ভাব্য প্রশ্ন
মালয়েশিয়া এয়ারপোর্টে সাধারণত তারা এই প্রশ্নগুলো করতে পারে—
- কেন যাচ্ছেন?
- কোথায় থাকবেন?
- কতদিন থাকবেন?
- আপনার কাছে কত টাকা আছে?
- ফেরার টিকিট আছে কি?
এই প্রশ্নগুলো সহজভাবে উত্তর দিলেই সমস্যা নেই।
৮) ভ্রমণের সময় নিরাপত্তা
মালয়েশিয়া নিরাপদ দেশ হলেও ভিড় বা পর্যটন এলাকায় নিজের ব্যাগ, পাসপোর্ট এবং মোবাইল সাবধানে রাখুন। রাইড নেওয়ার জন্য Grab ব্যবহার করুন—নিরাপদ এবং নির্ভরযোগ্য।
উপরের অতিরিক্ত তথ্যগুলো আপনার ভিসা অনুমোদন পাওয়ার সম্ভাবনা বাড়াবে এবং পুরো ভ্রমণ আরও সহজ ও নিরাপদ করবে।
⭐ শেষ কথা
বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য মালয়েশিয়া e-Visa করা খুবই সহজ, যদি সঠিক নিয়ম মেনে আবেদন করা হয়। উপরের ধাপগুলো অনুসরণ করলে আপনি ২৪–৭২ ঘণ্টায় ভিসা পেয়ে যাবেন। ভ্রমণের সময় সব প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সঙ্গে রাখুন এবং নিয়ম ভেঙে ভিসা ছাড়া যাওয়ার ভুল করবেন না।
