বুক ধড়ফড় করা কেন হয় . বুক ধড়ফড় করা একটি খুব সাধারণ কিন্তু অনেক সময় ভয় জাগানো শারীরিক সমস্যা। হঠাৎ করে মনে হয় বুকের ভেতরে হৃদপিণ্ড খুব দ্রুত, জোরে বা অনিয়মিতভাবে স্পন্দন করছে। কেউ কেউ এটাকে বুক কাঁপা, হার্ট বিট বেড়ে যাওয়া বা গলা পর্যন্ত ধাক্কা লাগার অনুভূতি হিসেবেও বর্ণনা করেন।
অনেক ক্ষেত্রে বুক ধড়ফড় করা সাময়িক ও ক্ষতিকর নয়, তবে কিছু পরিস্থিতিতে এটি হৃদযন্ত্র বা অন্যান্য শারীরিক সমস্যার ইঙ্গিত হতে পারে। তাই বুক ধড়ফড় হওয়ার কারণ জানা এবং কখন সতর্ক হওয়া প্রয়োজন—তা জানা অত্যন্ত জরুরি।
এই লেখায় আমরা বিস্তারিতভাবে জানবো—বুক ধড়ফড় করা কেন হয়, এর সাধারণ ও গুরুতর কারণগুলো কী, কখন এটি স্বাভাবিক এবং কখন অবশ্যই চিকিৎসকের কাছে যেতে হবে।
বুক ধড়ফড় করা বলতে কী বোঝায়?
বুক ধড়ফড় করা বলতে বোঝায় হৃদপিণ্ডের স্পন্দন স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি অনুভব হওয়া। এটি খুব দ্রুত হতে পারে, ধীর হতে পারে বা অনিয়মিত ছন্দে হতে পারে। কখনো কয়েক সেকেন্ড থাকে, আবার কখনো কয়েক মিনিট বা তার বেশি সময় স্থায়ী হয়।
বুক ধড়ফড় করার সাধারণ কারণ
১. মানসিক চাপ ও উদ্বেগ
মানসিক চাপ, দুশ্চিন্তা, ভয় বা প্যানিক অ্যাটাকের সময় শরীরে অ্যাড্রেনালিন নামক হরমোন বেড়ে যায়। এই হরমোন হৃদস্পন্দন দ্রুত করে দেয়, যার ফলে বুক ধড়ফড় অনুভূত হয়। পরীক্ষার আগে, খারাপ খবর শোনার পর বা অতিরিক্ত চিন্তার সময় এই সমস্যা বেশি দেখা যায়।
২. অতিরিক্ত চা, কফি ও ক্যাফেইন
চা, কফি, এনার্জি ড্রিংক বা ক্যাফেইনযুক্ত পানীয় অতিরিক্ত পরিমাণে গ্রহণ করলে হৃদযন্ত্র উত্তেজিত হয়ে পড়ে। এর ফলে বুক ধড়ফড় শুরু হতে পারে, বিশেষ করে যারা ক্যাফেইনে সংবেদনশীল।
৩. ঘুমের অভাব
দীর্ঘদিন পর্যাপ্ত ঘুম না হলে স্নায়ুতন্ত্র ও হৃদযন্ত্রের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হয়। এতে বুক ধড়ফড়, মাথা ভারী লাগা ও ক্লান্তি দেখা দিতে পারে।
৪. রক্তস্বল্পতা (অ্যানিমিয়া)
শরীরে হিমোগ্লোবিন কমে গেলে রক্ত পর্যাপ্ত অক্সিজেন বহন করতে পারে না। তখন হৃদযন্ত্রকে বেশি কাজ করতে হয়, যার ফলে বুক ধড়ফড়, দুর্বলতা ও শ্বাসকষ্টের মতো সমস্যা দেখা দেয়।
৫. শরীরে পানির ঘাটতি
পর্যাপ্ত পানি না পান করলে শরীর পানিশূন্য হয়ে পড়ে। এতে রক্তচাপ কমে যেতে পারে এবং হৃদস্পন্দন বেড়ে গিয়ে বুক ধড়ফড়ের অনুভূতি তৈরি হয়।
৬. হরমোনজনিত পরিবর্তন
গর্ভাবস্থা, থাইরয়েড সমস্যা বা হরমোনের ভারসাম্যহীনতার কারণে বুক ধড়ফড় হতে পারে। নারীদের ক্ষেত্রে মাসিক বা মেনোপজের সময়ও এই সমস্যা দেখা যায়।
৭. কিছু ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
কিছু ঠান্ডার ওষুধ, হাঁপানি বা থাইরয়েডের ওষুধ বুক ধড়ফড়ের কারণ হতে পারে। নিয়মিত ওষুধ সেবন করলে ডাক্তারের সাথে বিষয়টি আলোচনা করা জরুরি।
বুক ধড়ফড় কখন স্বাভাবিক?
নিচের পরিস্থিতিতে হালকা বুক ধড়ফড় সাধারণত ক্ষতিকর নয়—
- দৌড়ানো বা ভারী কাজের পর
- ভয়, উত্তেজনা বা চাপের মুহূর্তে
- জ্বর বা সংক্রমণের সময়
বিশ্রাম নিলে বা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে এসব ক্ষেত্রে বুক ধড়ফড় কমে যায়।
কখন বুক ধড়ফড় বিপজ্জনক হতে পারে?
নিচের লক্ষণগুলোর সাথে বুক ধড়ফড় হলে সেটিকে গুরুত্ব দিতে হবে—
- বুক ব্যথা বা চাপ অনুভব
- শ্বাস নিতে কষ্ট হওয়া
- মাথা ঘোরা বা অজ্ঞান হয়ে যাওয়া
- অতিরিক্ত ঘাম বা বমি ভাব
- বুক ধড়ফড় দীর্ঘ সময় ধরে চলা
এই লক্ষণগুলো হৃদরোগের ইঙ্গিতও হতে পারে।
বুক ধড়ফড় হলে কী করবেন?
বুক ধড়ফড় শুরু হলে—
- সঙ্গে সঙ্গে বসে বা শুয়ে পড়ুন
- গভীর ও ধীর শ্বাস নেওয়ার চেষ্টা করুন
- ক্যাফেইনযুক্ত পানীয় এড়িয়ে চলুন
- পর্যাপ্ত পানি পান করুন
- নিজেকে মানসিকভাবে শান্ত রাখুন
বুক ধড়ফড় প্রতিরোধে করণীয়
নিয়মিত জীবনযাত্রা বুক ধড়ফড় কমাতে সাহায্য করে—
- নিয়মিত পর্যাপ্ত ঘুম
- মানসিক চাপ কমানো
- পরিমিত ও স্বাস্থ্যকর খাবার
- হালকা ব্যায়াম বা হাঁটা
কখন ডাক্তারের কাছে যাবেন?
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) অনুযায়ী, বারবার বা অকারণ হৃদস্পন্দন বেড়ে গেলে তা অবহেলা না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
সূত্র: https://www.who.int
কখন ডাক্তারের কাছে যাবেন?
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) অনুযায়ী, বারবার বা অকারণ হৃদস্পন্দন বেড়ে গেলে তা উপেক্ষা না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
সূত্র: who
শেষ কথা
বুক ধড়ফড় অনেক সময় সাধারণ কারণেও হতে পারে, আবার কখনো গুরুতর হৃদরোগের লক্ষণও হতে পারে। তাই সমস্যা যদি বারবার হয় বা অন্য লক্ষণ যুক্ত হয়, তাহলে অবহেলা না করে ডাক্তারের শরণাপন্ন হওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ।
দায়বদ্ধতা ঘোষণা
এই লেখাটি শুধুমাত্র সাধারণ তথ্যের জন্য। এটি চিকিৎসার বিকল্প নয়। কোনো শারীরিক সমস্যা থাকলে অবশ্যই রেজিস্টার্ড চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
