পেটে গ্যাস হওয়ার কারণ – লক্ষণ, করণীয় ও কখন ডাক্তার দেখাবেন

পেটে গ্যাস হওয়ার কারণ । পেটে গ্যাস হওয়ার সমস্যা বর্তমানে খুবই সাধারণ একটি শারীরিক সমস্যা। ছোট থেকে বড়—সব বয়সের মানুষই কখনো না কখনো এই সমস্যায় ভোগেন। পেট ফাঁপা, অস্বস্তি, ঢেকুর ওঠা, কিংবা পেটে চাপ চাপ লাগা—এই উপসর্গগুলো দৈনন্দিন জীবনকে অনেক সময় অস্বস্তিকর করে তোলে।

অনেকেই ভাবেন পেটে গ্যাস হওয়া খুব সাধারণ ব্যাপার, তাই এ নিয়ে চিন্তার কিছু নেই। কিন্তু যদি গ্যাসের সমস্যা বারবার হয় বা দীর্ঘদিন চলতে থাকে, তাহলে সেটি শরীরের ভেতরের কোনো সমস্যার ইঙ্গিত হতে পারে। এই লেখায় আমরা জানবো—পেটে গ্যাস হওয়ার কারণ কী, কী লক্ষণ দেখা যায়, কী করলে কিছুটা আরাম পাওয়া যায় এবং কখন অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

পেটে গ্যাস কী?

পেটে গ্যাস বলতে সাধারণত বোঝানো হয় পেটের ভেতরে অতিরিক্ত বাতাস বা গ্যাস জমে যাওয়ার অবস্থা। হজম প্রক্রিয়ার সময় স্বাভাবিকভাবেই কিছু গ্যাস তৈরি হয়, কিন্তু সেই গ্যাস বেশি জমে গেলে বা সহজে বের হতে না পারলে অস্বস্তি তৈরি হয়।

পেটে গ্যাস হওয়ার সাধারণ কারণ

১. অনিয়মিত বা ভুল খাদ্যাভ্যাস

অনিয়মিত খাবার খাওয়া, সময়মতো না খাওয়া অথবা অতিরিক্ত তেলঝাল ও ভাজাপোড়া খাবার খেলে গ্যাসের সমস্যা বাড়ে। দ্রুত খাবার খাওয়ার সময় বেশি বাতাস পেটে ঢুকে যেতে পারে, যা গ্যাস সৃষ্টি করে।

২. হজমশক্তি দুর্বল হওয়া

যখন হজম ঠিকভাবে হয় না, তখন খাবার পাকস্থলীতে বেশি সময় থাকে। এর ফলে গ্যাস তৈরি হয় এবং পেট ফাঁপা লাগে।

৩. অতিরিক্ত কার্বনেটেড পানীয় গ্রহণ

সফট ড্রিংক বা কার্বনেটেড পানীয়তে অতিরিক্ত গ্যাস থাকে, যা সরাসরি পেটে গিয়ে জমতে পারে।

৪. কোষ্ঠকাঠিন্য

দীর্ঘদিন কোষ্ঠকাঠিন্য থাকলে মল অন্ত্রে জমে যায় এবং গ্যাস বের হতে বাধা পায়। এতে পেটে চাপ ও অস্বস্তি বাড়ে।

৫. মানসিক চাপ ও দুশ্চিন্তা

মানসিক চাপ হজম প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করে। অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা বা উদ্বেগ থাকলে পেটের সমস্যা, বিশেষ করে গ্যাস ও অ্যাসিডিটি দেখা দিতে পারে।

৬. কিছু নির্দিষ্ট খাবার

ডাল, বাঁধাকপি, ফুলকপি, মটরশুঁটি, পেঁয়াজ, দুধ বা দুধজাত খাবার কারও কারও ক্ষেত্রে বেশি গ্যাস তৈরি করতে পারে।

৭. দীর্ঘসময় বসে থাকা বা কম নড়াচড়া

দীর্ঘসময় বসে থাকলে বা শারীরিক পরিশ্রম একেবারেই না করলে হজম ধীর হয়ে যায়, ফলে গ্যাস জমে।

পেটে গ্যাস হওয়ার লক্ষণ

পেটে গ্যাস হলে সাধারণত নিচের লক্ষণগুলো দেখা যায়—

  • পেট ফুলে যাওয়া
  • পেটে চাপ চাপ অনুভব
  • ঘন ঘন ঢেকুর ওঠা
  • পেটে ব্যথা বা অস্বস্তি
  • বমি বমি ভাব

পেটে গ্যাস হলে কী করবেন?

পেটে গ্যাস হলে কিছু সাধারণ অভ্যাস উপকারে আসতে পারে—

  • ধীরে ধীরে খাবার খাওয়া
  • ছোট ছোট করে চিবিয়ে খাওয়া
  • পর্যাপ্ত পানি পান করা
  • অতিরিক্ত তেলঝাল এড়িয়ে চলা
  • হালকা হাঁটা বা নড়াচড়া করা

এই অভ্যাসগুলো অনেক ক্ষেত্রে গ্যাস কমাতে সাহায্য করে।

পেটে গ্যাস প্রতিরোধে জীবনযাত্রার পরিবর্তন

নিয়মিত খাবার খাওয়া, মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং পরিমিত শারীরিক পরিশ্রম পেটে গ্যাসের সমস্যা কমাতে সহায়ক হতে পারে। রাতে অতিরিক্ত ভারী খাবার এড়িয়ে চলাও গুরুত্বপূর্ণ।

কখন ডাক্তারের কাছে যাবেন?

যদি পেটে গ্যাসের সাথে নিচের লক্ষণগুলো দেখা যায়, তাহলে দেরি না করে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত—

  • দীর্ঘদিন ধরে গ্যাসের সমস্যা
  • তীব্র পেট ব্যথা
  • ওজন হঠাৎ কমে যাওয়া
  • বমির সাথে রক্ত
  • খাবারে অনীহা
  • পেটে গ্যাস হওয়ার কারণ

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) অনুযায়ী, দীর্ঘদিনের হজমজনিত সমস্যা উপেক্ষা না করে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নেওয়া জরুরি।
সূত্র: who

শেষ কথা

পেটে গ্যাস হওয়া অনেক সময় সাধারণ খাদ্যাভ্যাস বা জীবনযাত্রার ফল হলেও, এটি দীর্ঘস্থায়ী হলে গুরুত্ব দিয়ে দেখা প্রয়োজন। নিজের অভ্যাসে ছোট পরিবর্তন অনেক ক্ষেত্রে বড় উপকার আনতে পারে। তবে সমস্যা দীর্ঘদিন থাকলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ পথ।

দায়বদ্ধতা ঘোষণা

এই লেখাটি শুধুমাত্র সাধারণ তথ্যের জন্য। এটি চিকিৎসার বিকল্প নয়। কোনো শারীরিক সমস্যা বা উপসর্গ থাকলে অবশ্যই রেজিস্টার্ড চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

মাথা ঘোরা কেন হয়

দায়বদ্ধতা ঘোষণা

এই লেখাটি শুধুমাত্র সাধারণ তথ্যের জন্য। এটি চিকিৎসার বিকল্প নয়। কোনো শারীরিক সমস্যা বা উপসর্গ থাকলে অবশ্যই রেজিস্টার্ড চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

মাথা ঘোরা কেন হয় দায়বদ্ধতা ঘোষণা

এই লেখাটি শুধুমাত্র সাধারণ তথ্যের জন্য। এটি চিকিৎসার বিকল্প নয়। কোনো শারীরিক সমস্যা বা উপসর্গ থাকলে অবশ্যই রেজিস্টার্ড চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

মাথা ঘোরা কেন হয়

Exit mobile version